ব্ল্যাক হোলের ছবি কীভাবে তোলা হলো?

লিখেছেন BigyanPoka২ মিনিটে পড়ুনমন্তব্য করুন
ব্ল্যাক হোলের ছবি কীভাবে তোলা হলো?

ব্ল্যাক হোল এমন এক জায়গা, যেখানে মহাকর্ষ এত প্রবল যে আলোও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তাহলে প্রশ্ন জাগে—যা কোনো আলো ছাড়ে না, তার ছবি তোলা যায় কীভাবে? ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো একটি ব্ল্যাক হোলের ছায়ার ছবি প্রকাশ করে এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।

আসলে কীসের ছবি তোলা হয়েছে?

ছবিতে আমরা ব্ল্যাক হোলটিকে সরাসরি দেখি না; দেখি তার চারপাশে ঘুরতে থাকা অতি উত্তপ্ত গ্যাসের উজ্জ্বল বলয়। এই গ্যাস আলোর কাছাকাছি গতিতে ঘোরে এবং প্রচণ্ড তাপে রেডিও তরঙ্গ ছড়ায়। মাঝখানের অন্ধকার অংশটিকে বলা হয় ব্ল্যাক হোলের ‘ছায়া’—ঘটনা দিগন্তের (ইভেন্ট হরাইজন) কারণে সেখান থেকে কোনো আলো আমাদের কাছে পৌঁছায় না।

প্রথম ছবিটি ছিল M87 নামের একটি বিশাল ছায়াপথের কেন্দ্রের ব্ল্যাক হোলের, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে। এর ভর সূর্যের প্রায় ৬৫০ কোটি গুণ।

পৃথিবীর সমান একটি টেলিস্কোপ

এত দূরের এত ছোট একটি বস্তু দেখতে প্রয়োজন ছিল পৃথিবীর আকারের একটি টেলিস্কোপ। এমন টেলিস্কোপ বানানো সম্ভব নয়, তাই বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন ‘ভেরি লং বেসলাইন ইন্টারফেরোমেট্রি’ নামের কৌশল। অ্যান্টার্কটিকা থেকে হাওয়াই, চিলি থেকে স্পেন—বিভিন্ন মহাদেশের রেডিও টেলিস্কোপ একই সময়ে একই বস্তুর দিকে তাক করা হয়। পারমাণবিক ঘড়ির সাহায্যে প্রতিটি সংকেতের সময় নিখুঁতভাবে লিখে রাখা হয়।

এই যৌথ উদ্যোগের নাম ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (EHT)। টেলিস্কোপগুলো ১.৩ মিলিমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে পর্যবেক্ষণ করেছিল, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে আসতে পারে।

পেটাবাইট ডেটা, বিমানে করে

পর্যবেক্ষণে জমা হয়েছিল প্রায় ৫ পেটাবাইট ডেটা—ইন্টারনেটে পাঠানোর জন্য যা অনেক বেশি। তাই শত শত হার্ডড্রাইভ বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয় বিশেষ সুপারকম্পিউটার কেন্দ্রে। সেখানে সব সংকেত মিলিয়ে, বছরের পর বছর বিশ্লেষণ করে তৈরি হয় সেই বিখ্যাত কমলা রঙের বলয়ের ছবি।

ছবিটি আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলে গিয়েছিল—ছায়ার আকার ঠিক যতটা হওয়ার কথা, প্রায় ততটাই।

আমাদের ছায়াপথের ব্ল্যাক হোল

২০২২ সালে একই দল আমাদের নিজেদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার কেন্দ্রে থাকা ব্ল্যাক হোল ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’-এর ছবিও প্রকাশ করে। এটি M87-এর তুলনায় অনেক ছোট, তাই এর চারপাশের গ্যাস কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবস্থান বদলায়—যা ছবি তোলাকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।

কেন এই ছবি গুরুত্বপূর্ণ?

  • ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের সবচেয়ে সরাসরি দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া গেছে।
  • চরম মহাকর্ষে আপেক্ষিকতা তত্ত্ব পরীক্ষা করার নতুন পথ খুলেছে।
  • পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীদের সহযোগিতা কত বড় কাজ করতে পারে, তার উদাহরণ তৈরি হয়েছে।

পরের ধাপে বিজ্ঞানীরা ব্ল্যাক হোলের ‘ভিডিও’ তৈরির চেষ্টা করছেন—যাতে দেখা যায় তার চারপাশের গ্যাস সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়।