কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট: আইনস্টাইনের ‘ভুতুড়ে ক্রিয়া’ সহজ ভাষায়

লিখেছেন BigyanPoka১ মিনিটে পড়ুনমন্তব্য করুন
কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট: আইনস্টাইনের ‘ভুতুড়ে ক্রিয়া’ সহজ ভাষায়

কোয়ান্টাম বলবিদ্যার সবচেয়ে অদ্ভুত ঘটনাগুলোর একটি হলো এনট্যাঙ্গলমেন্ট বা জড়াজড়ি অবস্থা। দুটি কণা যখন এনট্যাঙ্গলড থাকে, তখন একটির অবস্থা মাপলেই অন্যটির অবস্থা সঙ্গে সঙ্গে নির্ধারিত হয়ে যায়—তাদের মধ্যে দূরত্ব যত বেশিই হোক।

এক জোড়া গ্লাভসের উদাহরণ

ধরুন, এক জোড়া গ্লাভস আলাদা দুটি বাক্সে রেখে একটি পাঠানো হলো ঢাকায়, অন্যটি চাঁদে। ঢাকায় বাক্স খুলে ডান হাতের গ্লাভস পেলে আপনি সঙ্গে সঙ্গে জানেন, চাঁদের বাক্সে আছে বাঁ হাতেরটি। কিন্তু কোয়ান্টাম জগৎ এর চেয়েও অদ্ভুত: মাপার আগ পর্যন্ত কণাগুলোর অবস্থা আগে থেকে ঠিক করা থাকে না।

আইনস্টাইনের আপত্তি

আইনস্টাইন এই ধারণা মেনে নিতে পারেননি। তিনি একে বলেছিলেন ‘দূরত্বে ভুতুড়ে ক্রিয়া’। তাঁর ধারণা ছিল, কণাগুলোর মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো ‘লুকোনো তথ্য’ আগে থেকেই আছে।

১৯৬৪ সালে পদার্থবিদ জন বেল এমন একটি গাণিতিক শর্ত দেন, যা পরীক্ষা করে বোঝা যায় লুকোনো তথ্যের ধারণা সত্য কি না। পরবর্তী কয়েক দশকের পরীক্ষাগুলো দেখিয়েছে, কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ভবিষ্যদ্বাণীই সঠিক।

নোবেল ও প্রযুক্তি

এই পরীক্ষাগুলোর জন্য ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান অ্যালাঁ আসপে, জন ক্লাউজার ও আন্তন সাইলিঙ্গার। আজ এনট্যাঙ্গলমেন্ট ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে হ্যাক-প্রতিরোধী কোয়ান্টাম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটার।

মনে রাখা দরকার, এনট্যাঙ্গলমেন্ট দিয়ে আলোর চেয়ে দ্রুত কোনো বার্তা পাঠানো যায় না—আপেক্ষিকতা তত্ত্ব তাই অক্ষত থাকে।