আমাদের প্রতিটি কোষে আছে ডিএনএ, যেখানে চারটি রাসায়নিক ‘অক্ষর’ দিয়ে লেখা আছে জীবনের নির্দেশনা। এই লেখায় একটি ভুল অক্ষরও অনেক সময় গুরুতর রোগের কারণ হয়। ক্রিসপার-ক্যাস৯ প্রযুক্তি সেই ভুল খুঁজে বের করে সংশোধন করার সুযোগ দিয়েছে।
ব্যাকটেরিয়ার কাছ থেকে শেখা
ব্যাকটেরিয়া ভাইরাসের আক্রমণ মনে রাখার জন্য ভাইরাসের ডিএনএ-র টুকরো নিজের জিনোমে সংরক্ষণ করে রাখে। পরে একই ভাইরাস এলে ক্যাস৯ নামের একটি প্রোটিন সেই তথ্য মিলিয়ে ভাইরাসের ডিএনএ কেটে ফেলে।
কীভাবে কাজ করে?
- বিজ্ঞানীরা একটি ‘গাইড আরএনএ’ তৈরি করেন, যা লক্ষ্য ডিএনএ-র সঙ্গে মিলে যায়।
- গাইড আরএনএ ক্যাস৯ প্রোটিনকে ঠিক সেই জায়গায় নিয়ে যায়।
- ক্যাস৯ সেখানে ডিএনএ কাটে, আর কোষ নিজেই কাটা অংশ জোড়া লাগায়—চাইলে নতুন অংশ বসিয়েও দেওয়া যায়।
নোবেল থেকে চিকিৎসা
এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য ২০২০ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান জেনিফার ডাউডনা ও ইমানুয়েল শার্পেন্তিয়ে। ২০২৩ সালে সিকেল সেল রোগের চিকিৎসায় প্রথম ক্রিসপারভিত্তিক থেরাপি অনুমোদন পায়।
তবে মানুষের ভ্রূণে জিন সম্পাদনা নিয়ে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে, তাই বিশ্বজুড়ে এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আলোচনা চলছে।









